স্মরণ

এটিএম আনিসুজ্জামান (জন্ম ১২ নভেম্বর ১৯৭৯, মৃত্যু- ২১ এপ্রিল ২০১০)

এটিএম আনিসুজ্জামান। জন্ম ১৯৭৯ সালের ১২ নভেম্বর ফরিদপুরের মধুখালী থানার দস্তরদিয়া গ্রামে। মা- মোসাম্মাত হাজেরা খাতুন। বাবা- হাবিবুর রহমান মিঞা। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। পড়াশুনা কাজিরদী প্রাইমারি স্কুলে। কাজিরদী হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ শেষে আইনুদ্দিন কলেজ থেকে ইন্টার পাশ করেন।

(আবৃত্তি একাডেমি প্রযোজনা নো দাইসেলফ মঞ্চায়ন শেষে অন্যান্যের সাথে এটিএম আনিসুজ্জামান)

ছোটবেলা থেকেই আনিসের সাংস্কৃতিক প্রতিভা প্রকাশিত হতে থাকে। ক্লাস ফোরে পড়ার সময় মায়ের ছবি এঁকে বাড়ির সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন। স্থানীয় গ্রামে মঞ্চনাটক করা, নাটক লেখা, গান গাওয়া এসব করতেই ভালোবাসতেন তিনি। সবার ইচ্ছে ছিল তাকে মাদ্রাসায় পড়ানো। কিন্তু আনিস সব সময় নাটক আবৃত্তি গান ছবি আঁকা এসব নিয়েই পড়ে থাকতেন।

(সিনিয়র সদস্যদের সাথে এটিএম আনিসুজ্জামান)

ইন্টার পাশের পর ঢাকায় চলে আসেন তিনি। এখানে এসে প্রথমে ঢাকা পদাতিকে কাজ শুরু করেন। এরপর আবৃত্তি একাডেমির সাথে যুক্ত হন। অল্পদিনের মধ্যেই সংগঠনটির কার্যনির্বাহী সদস্য হয়ে যান। একটি আবৃত্তি প্রযোজনায়ও নির্দেশনা দেন তিনি। আবৃত্তি একাডেমির যে কোন অনুষ্ঠানে আনিস ছিল এক অপরিহার্য নাম। সেট-লাইট-মিউজিক থেকে শুরু করে মঞ্চে আবৃত্তি করা, গান গাওয়া, প্রচ্ছদ আঁকা সব কিছুতেই পারদর্শী ছিলেন তিনি। ‘নক্ষত্রের পানে চেয়ে বেদনার পানে’ প্রযোজনার প্রচ্ছদ করে সবার দৃষ্টি কাড়েন।

এত এত কর্মযজ্ঞের বাইরে তার ছিল নিজস্ব কিছু দু:খ। যে দু:খগুলোর দেখা আমরা পেতাম না তেমন একটা। ২০১০ সালের ২১ এপ্রিল ঘাতক বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যান তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাবার পর উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করেন আনিস। কিন্তু পেছনে পথচারিদের হৈ হৈ চিৎকার শুনে ভীত সন্ত্রস্ত ড্রাইভার গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আর তাতে আনিসের গায়ের উপর দিয়ে চলে যায় বাসটি। নিথর হয়ে যায় একটি অসংখ্য গুণের সমাহার মেধাবী প্রাণ।

Comments are closed